মান্না বেঁচে থাকলে শাকিব খান এতো সহজে উপরে উঠতে পারতোনা!সোহেল রানার এ মন্তব্যে কি বলছেন নেটিজেনরা?

মেহেদি হাসান:

ঢালিউডের প্রবীণ অভিনেতা সোহেল রানার একটি মন্তব্য ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তীব্র আলোচনা ও বিতর্ক শুরু হয়েছে। একটি সাক্ষাৎকারে সোহেল রানা বলেন, মান্না বেঁচে থাকলে শাকিব খানের এতটা ওপরে ওঠা কষ্টকর হতো। এই বক্তব্য প্রকাশের পরপরই নেটিজেনদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। কেউ একে বাস্তবসম্মত মতামত হিসেবে দেখছেন, আবার কেউ একে গুরুত্বহীন মন্তব্য বলে উড়িয়ে দিচ্ছেন।

ছবি : আইএমডিবি

একজন মন্তব্যকারী প্রশ্ন তুলেছেন, কারো প্রতিভা কি কেউ আটকে রাখতে পারে? তার মতে, প্রতিভাবান অভিনেতা হলে সময়ের সাথে সে নিজেই জায়গা করে নেয়, কেউ তাকে থামিয়ে রাখতে পারে না। এই মন্তব্যে মূলত শিল্পীর ব্যক্তিগত দক্ষতা ও দর্শক গ্রহণযোগ্যতার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।অন্যদিকে, কেউ কেউ মনে করছেন মান্না বেঁচে থাকলে ঢালিউড আরও এগিয়ে যেতে পারত। তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, মান্না ছিলেন গণমানুষের নায়ক এবং ইন্ডাস্ট্রির জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ। তার উপস্থিতি থাকলে হয়তো একাধিক বড় তারকার সহাবস্থান সম্ভব হতো এবং ঢালিউডে সুস্থ প্রতিযোগিতা তৈরি হতো।তবে বিতর্কের আরেক অংশে বেশ কড়া ভাষায় সোহেল রানার মন্তব্যকে অগ্রাহ্য করেছেন কিছু নেটিজেন।

এক মন্তব্যকারী লিখেছেন, এই ধরনের কথার কোনো মূল্য নেই এবং বর্তমান প্রজন্ম মান্নার মতো নায়ককে পছন্দ করত না। তার মতে, মান্না বেঁচে থাকলেও রুবেল, আমিন খান কিংবা রিয়াজ ফেরদৌসের মতোই তিনি আজকের সময়ে দর্শকের আগ্রহ হারাতেন। একই মন্তব্যে আরও বলা হয়েছে, বর্তমান প্রজন্মের রুচি ও সময়ের চাহিদা আলাদা, তাই পুরনো যুগের নায়করা আজকের বাজারে সহজে টিকে থাকতে পারতেন না।এই মন্তব্যকারী আরও যুক্তি দিয়েছেন যে, শাকিব খান নিজেকে সময়ের সাথে পরিবর্তন করেছেন এবং তার চেহারা ও উপস্থাপনা এখনও তরুণ দর্শকদের কাছে আকর্ষণীয়। তার মতে, শাকিব খানের ক্যারিয়ারের বড় শক্তি হলো নিজেকে আপডেট করা এবং নতুন প্রজন্মের সাথে তাল মিলিয়ে চলা।

ছবি : ঢাকা ট্রিবিউন

অন্যদিকে, অনেকে আবার মান্নার জনপ্রিয়তা ও গ্রহণযোগ্যতার কথা তুলে ধরেছেন। তাদের মতে, মান্না ছিলেন গণমানুষের নায়ক এবং তিনি জীবিত থাকলে শাকিব খানের জন্য শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতা তৈরি হতো। এক মন্তব্যে বলা হয়েছে, মান্নার উপস্থিতিতে শাকিব খানের একচ্ছত্র আধিপত্য এতটা সহজ হতো না এবং ঢালিউডে শক্ত প্রতিযোগিতার পরিবেশ তৈরি হতো।কিছু নেটিজেন মনে করছেন, এই ধরনের তুলনা আসলে সময় ও প্রেক্ষাপটের পার্থক্য উপেক্ষা করে করা হয়। মান্নার সময়ের দর্শক, গল্পের ধরন এবং বাজারের চাহিদা বর্তমান সময়ের থেকে অনেক আলাদা ছিল। তাই দুই প্রজন্মের সুপারস্টারকে একই মানদণ্ডে বিচার করা সঠিক নয় বলে মত দিয়েছেন অনেকে।

ছবি : স্টার আনফোল্ড

সব মিলিয়ে, সোহেল রানার মন্তব্য ঘিরে যে বিতর্ক তৈরি হয়েছে, তা শুধু মান্না ও শাকিব খানের তুলনা নয় বরং ঢালিউডের স্টারডম, সময়ের পরিবর্তন, দর্শকের রুচি এবং ইন্ডাস্ট্রির গতিপ্রকৃতি নিয়েও নানা প্রশ্ন তুলে ধরেছে। কেউ এই মন্তব্যকে বাস্তবসম্মত ইতিহাসের বিশ্লেষণ হিসেবে দেখছেন, কেউ আবার এটিকে আবেগপ্রবণ ও গুরুত্বহীন বক্তব্য বলে উড়িয়ে দিচ্ছেন।এই বিতর্কে একপক্ষ মান্নার কিংবদন্তি জনপ্রিয়তার কথা তুলে ধরছেন, অন্যপক্ষ শাকিব খানের সময়োপযোগী রূপান্তর ও বর্তমান প্রজন্মের রুচির বিষয়টি সামনে আনছেন। ফলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই আলোচনা ক্রমেই বিস্তৃত হচ্ছে এবং ঢালিউডের দুই প্রজন্মের দুই আইকনিক অভিনেতাকে নিয়ে দর্শকদের দৃষ্টিভঙ্গির পার্থক্য স্পষ্ট হয়ে উঠছে।